৪র্থ গোলটেবিল বৈঠক : ‘গ্রামীণ বসতির নবরূপের সম্ভাবনা’

সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পেশাজীবীদের মতামত জনসম্মুখে উপস্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ফোরাম ফর ফিজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ (এফপিডি)। এর বিভিন্ন কার্যক্রমের একটি হচ্ছে বিষয়ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের মতামত সংগ্রহ করে প্রকাশনা বের করা। এই উদ্দেশ্যে গত ২৩ জুলাই ২০০৯ তারিখে Renewal Prospect of Rural Habitat (গ্রামীণ বসতির নবরূপের সম্ভাবনা) শীর্ষক চতুর্থ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়  র‍্যাফলেশিয়া, বাড়ি নং-২, রোড নং-২২, গুলশান-১, ঢাকা। উক্ত গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন-

১) স্থপতি কাজী আনিসউদ্দিন ইকবাল, চেয়ারম্যান, বিল্ডিং ফর ফিউচার লিমিটেড; নির্বাহী পরিচালক, এফপিডি

২) প্রকৌশলী তানভিরুল হক প্রবাল, সভাপতি, রিহ্যাব; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিল্ডিং ফর ফিউচার; ফিন্যান্স ডিরেক্টর, এফপিডি

৩) ড. আ.আ.ম. শামসুর রহমান, হেড (সেন্টার ফর ট্রেনিং), বিসিএল অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড

৪) অধ্যাপক ড. আমানত উল্লাহ খান, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৫) অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খান, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৬) জনাব আসফাক আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক, ডিপার্টমেন্ট অব বোটানি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৭) অধ্যাপক আল-আমীন মোহাম্মদ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

৮) স্থপতি এ.এইচ.এম. মাকসুদ সিনহা, নির্বাহী পরিচালক, ওয়েস্ট কনসার্ন

৯) জনাব রেজাউল করিম সিদ্দিক, এনকর, মাটি ও মানুষ, বাংলাদেশ টেলিভিশন

১০) প্রকৌশলী মীর তানভীর হুসেইন, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, সাসটেইনেবল রুরাল এনার্জি, এলজিইডি

১১) রতন কুমার সাহা, সিনিয়র রিজিওন্যাল ম্যানেজার, বিডিপি মাইক্রো ফিন্যান্স, ব্র্যাক

১২) প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী, গ্রামীণ শক্তি

স্থপতি কাজী আনিসউদ্দিন ইকবাল,  স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডে পেশাজীবীদের মতামত উপেক্ষিত হয়ে থাকে অথবা সঠিক ব্যক্তির কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করা হয় না। ফলে পরবর্তীকালে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই আমরা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য একটি উপযুক্ত ফোরাম তৈরি করেছি। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি করা, যেখানে দেশের দক্ষ, অভিজ্ঞ ও যোগ্যতাসম্পন্ন বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারবেন।

আমরা জানি, বাংলাদেশ অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি দেশ কিন্তু আয়তনের তুলনায় এর জনসংখ্যা অনেক বেশি। তা ছাড়া আমাদের দেশের অধিকাংশ লোক গ্রামে বসবাস করে। ক্রমবর্ধমান এই গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বাসস্থান সরবরাহের জন্য দেশের পল্লী অঞ্চলে আবাসনব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। তা ছাড়া বর্ধিত জনসংখ্যার বাসস্থান জোগান দিতে প্রতিনিয়তই উর্বর কৃষিজমির পরিমাণ কমছে। কাজেই উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে স্বল্প পরিসরে অধিক বাসস্থান সরবরাহ করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমাদের এখনকার আলোচনার মূল বিষয়বস্তু Renewal Prospect of Rural Habitat (গ্রামীণ বসতির নবরূপের সম্ভাবনা)। কাজেই এই আলোচনা সভায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন পেশাজীবীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আশা করি আপনাদের মূল্যবান মতামতের ভিত্তিতেই সমস্যার সমাধানের কৌশল বেরিয়ে আসবে।

. ... শামসুর রহমান,বলেন, গ্রামীণ বসতির নবরূপ দিতে হলে আমাদের প্রথমেই পরিকল্পনাপদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। দুর্বল পরিকল্পনাপদ্ধতির কারণে আমাদের বেশির ভাগ উদ্যোগ সফল হয় না। আমাদের যেটা করা উচিত ছিল সেটা হলো জন্মনিয়ন্ত্রণ। আমরা সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছি। যমুনা সেতুর তীরবর্তী ৭০ হাজার পরিবারের পুনর্বাসনের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পেরেছি, আমাদের দেশের পুনর্বাসন-প্রক্রিয়ায় পুনর্বাসিত জনসাধারণ সন্তুষ্ট নয়। গ্রামীণ বসতির নবরূপ দিতে গেলে কতগুলো বিষয় বিবেচনা করতে হবে, তা নির্ধারণ করতে হবে। সামাজিক পদ্ধতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা একটি বিবেচ্য বিষয়। সব ধরনের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে সবচেয়ে ভালো সমাধান বের করতে হবে এবং এগুলোর জন্য Advocacy করতে হবে।

অধ্যাপক আলআমীন মোহাম্মদ, বলেন, গ্রামীণ এলাকায় বায়োগ্যাস উৎপাদন করে তা ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। ইউরোপে বর্জ্য পদার্থ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরকারের ভর্তুকি দেওয়া প্রয়োজন। এনার্জি সেভিং বাল্বের দাম কমিয়ে সবার কাছে সহজলভ্য করতে হবে। গ্রামীণ বসতির বাস্তুসংস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে সমন্বিত উপায়ে বসতির নবরূপের চিন্তা করতে হবে। সুতরাং Flora & Fauna, Bio-diversity conservation & management -এর ওপর প্রচন্ড গুরুত্ব দিতে হবে। কুকুর, ছাগল, কাক, হাঁস-মুরগি মানুষের সঙ্গে Symbolically Related। যেকোনো পরিকল্পনা/কর্মসূচি আগামী ১০০ বছরের জন্য করতে হবে। দেশের সব রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা থেকে না নিয়ে ছয়টি বিভাগীয় কমিশনারের সমন্বিত উপায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।

ভূঅধ্যাপক . আমানত উল্লাহ খান, বলেন, আমি মনে করি, দেশের সার্বিক নগরায়ণ এবং জাতীয় গৃহায়ণ নীতিমালা বিবেচনা না করে গ্রামীণ বসতির নবরূপ দেওয়া সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে গ্রামীণ ও শহুরে উভয় বসতির বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে। আমাদের অবশ্যই গ্রামীণ এলাকায় বসতির একত্রীকরণের পূর্ব-অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। গ্রামীণ বসতির নবরূপ দেওয়ার আগে শহর পরিকল্পনা এবং শহর পুনর্বিন্যাস করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

স্থপতি .এইচ.এম. মাকসুদ সিনহা, বলেন, Rural Urban Symbiosis দরকার Waste Management -এর ক্ষেত্রে। গ্রাম থেকে Vegetable শহরে আসে। শহর তা Consume করে পরিত্যক্ত অংশ নিচু জায়গা বা জলাশয়ে ফেলে দেয়। ফলে পানি, বায়ু, মাটি দূষণ হয়। এগুলো থেকে গ্রিন হাউজ গ্যাসও বের হয়। Aerobic Compost Process -এর মাধ্যমে এই আবর্জনাকে জৈব সারে পরিণত করা যায় এবং গ্রিন হাউজ গ্যাস কমানো যায়। দ্রুত বিলুপ্ত জৈব অংশ গ্রামের মাটিতে ফিরিয়ে দেওয়া যায়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ঠিকমতো ব্যবহার করা যাবে উপযুক্ত কৌশলের মাধ্যমে। জৈব কৃষিকাজের প্রচার দরকার, এতে কীটনাশকের ব্যবহার কমবে। প্রতিটি গ্রামে Aerobic Compost Process -এর মাধ্যমে বর্জ্যকে সারে পরিণত করা যায় Soil Security -এর জন্য। Eco-Village Concept নিয়ে চিন্তা করা দরকার। কৃষি বর্জ্য সংগ্রহ করে গ্রিন হাউজ গ্যাস কমিয়ে Carbon Trading -এর মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগ আনা সম্ভব।

প্রকৌশলী মীর তানভীর হুসেইন,বলেন, টেকসই উন্নয়নে নবায়নযোগ্য শক্তির ভূমিকা অনস্বীকার্য। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। এখনো সৌরবিদ্যুতের খরচ তুলনামূলক বেশি। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেমে ব্যাটারি ব্যবহৃত হলে, যা ৫-৮ বছর পর পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, আরও অতিরিক্ত খরচ যোগ হয়। গতানুগতিক বিদ্যুৎ সরবরাহ প্ল্যান্টের নির্মাণ খরচ, প্রদত্ত সাবসিডি, গ্রিডের খরচ ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করা হলে প্রত্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ Economically Feasible হয়। বর্তমানে গ্রামে-গঞ্জে বিচ্ছিন্নভাবে যেসব সোলার প্যানেল স্থাপিত হচ্ছে, এগুলো থেকে উৎপন্ন সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে তা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ কারণে বিকল্প বা নবায়নযোগ্য শক্তির সুফল যথাযথভাবে পেতে সৌরশক্তি থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বায়োগ্যাস প্রযুক্তি বেশ উপযোগী। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী এই প্রযুক্তি থেকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জৈব সার পাওয়া যায়। গৃহস্থালির বর্জ্য থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। মানুষের মলমূত্র ব্যবহার করে বায়োগ্যাস তৈরিতে Eco-sanitation বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

অধ্যাপক . মো. হারুনর রশীদ খান, বলেন, গ্রামীণ বসতির নবরূপের সম্ভাবনা নিঃসন্দেহে একটি মহৎ ও সাহসী উদ্যোগ। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে পরিবেশ ও প্রতিবেশের প্রতি সূক্ষ্ম দৃষ্টি রেখে একটি আদর্শ গ্রাম গঠন করা যেতে পারে। গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের বাসস্থানের Vertical Development এবং কৃষিজমির ঐড়ৎরুড়হঃধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ করতে হবে। গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের চাহিদার ভিত্তিতে উপযুক্ত স্থানে দু-তিনতলার ইমারত হতে পারে।

সেই সঙ্গে, তাদের দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত করতে হবে, যেমন: শিক্ষকতা, শিল্পভিত্তিক কারিগরি কাজ, যান্ত্রিক কৃষিকাজ, সবুজায়ন, সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুতায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বায়োগ্যাস উৎপাদন ইত্যাদি।

জনাব আসফাক আহমেদ, বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন খুবই কার্যকরী কিন্তু ব্যয়বহুল। বসতির পুনর্বিন্যাসের ফলে ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন হবে। প্রথমে ওই এলাকার Flora & Fauna -এর তালিকা তৈরি করতে হবে। বসতির নবরূপের কারণে যেন Bio-diversity পরিবর্তন না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মের কথা চিন্তা করে ভালো বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে গাছপালা ও পশুপাখি সর্বোপরি পরিবেশের বাস্তুসংস্থানের কথা বিবেচনায় রাখতে হবে।

জনাব রেজাউল করিম সিদ্দিক, বলেন, আমাদের দেশে প্রতিবছর ১ শতাংশ করে কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে কিন্তু প্রতিবছর পাঁচ লাখ টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য প্রয়োজন হচ্ছে। Vertical বা Horizontal Expansion যা-ই হোক না কেন, আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের ওপর প্রভাব পড়বে। পারিবারিক দায়িত্ববোধগুলোকে বাদ দেওয়া যাবে না। গ্রামবাসীরা তাদের পৈতৃক ভিটা ছাড়তে চাইবে না। তা ছাড়া তাদের বর্তমান বাসস্থানের সঙ্গে একটি মজবুত সামাজিক বন্ধন জড়িত আছে। মানুষের বাসস্থানের চাহিদা প্রকট। তাই মানুষ বন-জঙ্গল, জলাভূমি উজাড় করে বাসস্থান তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামীণ বসতির নবরূপ বাস্তবায়ন অত্যন্ত কঠিন হবে। এ ধরনের উদ্যোগে সকল নিম্ন আয়ের মানুষের কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে। তবে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে গরিব জনসাধারণও অংশগ্রহণ করবে। চীনে দেখা যায়, বহুতল ভবনের নিচতলায় গৃহপালিত পশুপাখি রাখা হয় এবং ভবনের সব পরিবার একত্রে বায়োগ্যাস, সৌরবিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ ইত্যাদির ব্যবস্থা করে। আমরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছি, তা আরও বিকশিত করতে হবে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নতুন একটা কিছু করা সুবিধাজনক। ভালো ফল পাওয়া গেলে পরবর্তীকালে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। সবাই মিলে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

রতন কুমার সাহা, বলেন, বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে অল্প জমি ব্যবহার করে আবাসিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব এবং বিপুল পরিমাণ ভূমিকে চাষের আওতায় আনা সম্ভব। একই রাস্তার জায়গা বিভিন্ন ব্যবহারের মাধ্যমে জমি/ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার করে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব। পরিকল্পিতভাবে আবাসন তৈরির পাশাপাশি সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, সাংস্কৃতিক সুযোগ-সুবিধা) বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নততর জীবন নিশ্চিত করতে হবে। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এবং উচ্চফলনশীল কৃষিজ ফসলে উৎপাদন করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনসহ আমরা বাড়তি খাদ্যশস্য রপ্তানি করতে পারি। বৃহৎ ও মাঝারি শিল্প কারখানা শুধু ঢাকা শহরে স্থাপন না করে বিভাগীয় ও জেলা শহরে স্থাপনের মাধ্যমে রাজধানীর ওপর থেকে মানুষের চাপ কমানো সম্ভব। মেধাবীদের দেশের বাইরে যাওয়াকে নিরুৎসাহিত করে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের মেধাকে দেশের ভেতরেই বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজে নিয়োজিত করে ভালো ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজে লাগাতে পারি। তেল ও গ্যাসের বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ এবং বায়োগ্যাস (সকল প্রকার বর্জ্য, এমনকি মানুষের বর্জ্যসহ) ব্যবহার করে ছোট ছোট শিল্প গড়ে তুলে উন্নয়ন করা যেতে পারে। কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে জমির আইল প্রথা উঠিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ যান্ত্রিক উপায়ে চাষাবাদ করে কৃষিজ উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব। আমাদের দেশে অঞ্চল ভিত্তিতে কৃষিপণ্য বা ফলমূল উৎপাদিত হয় কিন্তু এসব উৎপাদিত পণ্যের সঠিক গুদামজাতকরণ সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে সারা বছর ওই সব পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারি। উৎপাদিত পণ্যের প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে (প্যাকেটজাতের মাধ্যমে) বিশেষ করে ফলগুলোকে বছরব্যাপী সহজলভ্য করা এবং রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। বাংলাদেশে যে সীমিত সম্পদ (মানবসম্পদ, জলাভূমি, কৃষি, বন, পশু, মৎস্য) আছে, এই সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আমরা অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারি। উল্লিখিত সকল বিষয়ের সফলতা নির্ভর করে উদ্যোক্তাদের সদিচ্ছা, ত্যাগ, সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ইত্যাদির ওপর।

প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামবলেন, পৃথিবীর জীবাশ্ম জ্বালানি ধীরে ধীরে শেষ হয়ে আসবে, তখন নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর মানুষকে নির্ভর করতে হবে। নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন: বায়োগ্যাস, সৌরবিদ্যুৎ, উন্নত চুলা নিয়ে গ্রামীণ এলাকায় কাজ করলে মানুষ ও পরিবেশের যথেষ্ট উপকার হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যাপক চাহিদা আছে। বাংলাদেশে প্রায় চার কোটি পরিবার আছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সামর্থ্য আছে প্রায় দুই কোটি পরিবারের। বাকি দুই কোটি পরিবারের মধ্যে মাত্র ১০ লাখ পরিবার নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা পেয়েছে।

Leave a Reply